এক নজরে মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান
আশির দশকের শুরুর দিকে আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার প্রেসিডেন্ট জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে চট্টগ্রাম কলেজে অধ্যয়নকালে ছাত্র রাজনীতির সাথে যুক্ত হন। সাংগঠনিক দক্ষতা ও যোগ্যতা প্রমাণ করে ১৯৮৪ সালের কলেজ কমিটির সভাপতি হিসাবে রাজনৈতিক অভিষেক ঘটে এই ক্যারিশমাটিক রাজনীতিবিদের।
তিনি কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার সাহারবিল গ্রামে ১৯৬৪ সালে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মৌলানা আবুল হাশেম এবং মাতা হুরে জান্নাত। ৭ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ২য়। তার মাতামহ পেকুয়ার শিলখালীর হযরত খাজা খিজির (রঃ) এবং জেঠা উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম মৌলানা মোজাহের আহমদ।
১৯৮৫ সালে নগর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। সহ-সভাপতি হিসাবে আপোষহীন নেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের অগ্রপথিক হিসাবে নজর কাড়েন সর্ব মহলের। এরই পুরস্কার হিসাবে ১৯৮৭ সালে গঠিত মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি হিসাবে নির্বাচিত হন আবু সুফিয়ান। সাহসী নেতৃত্ব ও জনপ্রিয়তা বলে তাকে করা হয় স্বৈরাচার বিরোধী সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য পরিষদের চট্টগ্রামের আহবায়ক। কৌশলী আন্দোলন ও দীর্ঘ সংগ্রামের সফল পরিনতি ঘটে ৯০’র স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের পতনের মাধ্যমে।
বিপ্লবী সংগ্রামী জীবনের পর আসে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করার পালা ৯১’র নির্বাচন। সুন্দর ব্যবস্থাপনা ও ব্যাপক গণসংযোগ গড়ে তুলেন চট্টগ্রাম মহানগরীর নির্বাচনী এলাকা সমূহে। চট্টগ্রামসহ সারা দেশে অভূতপূর্ব বিজয় অর্জন করে সরকার গঠন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আবু সুফিয়ান হয়ে ওঠেন তৎকালীন পরিবেশ, মৎস্য ও পশু সম্পদ মন্ত্রী তুখোড় রাজনীতিবিদ আবদুল্লাহ আল নোমানের ছায়াসঙ্গী। ঐ সময়ের হৃদতার জন্যই আবু সুফিয়ানকে আবদুল্লাহ আল নোমানের ভাবশিষ্য হিসাবে রাজনৈতিক মহলে ডাকা হয়।
ছাত্রদলের নতুর কমিটি করার প্রয়োজনে পুর্ণাঙ্গ কমিটি ভেঙ্গে ১৯৯২ সালে গঠিত হয় আহবায়ক কমিটি। আবু সুফিয়ান ছিলেন ঐ কমিটির আহবায়ক। ১৯৯৬ সালে মীর নাসির সভাপতি ও মরহুম দস্তগীর চৌধুরী সাধারণ সম্পাদক হিসাবে চট্টগ্রাম মহানগর বি.এন.পির কমিটি গঠিত হলে যুগ্ম সম্পাদক হিসাবে নির্বাচিত হন। ৯৬ থেকে ২০০১ সালের বিরোধীদলের আন্দোলনে সাহসী ভূমিকা ও নেতৃত্ব তাকে প্রিয় সহচর হিসাবে গ্রহণ করেন সভাপতি মীর নাছির। আন্দোলনের ফলে যেতে হয় কারাগারে। নেতাকর্মীদের প্রতিবাদে আহুত হরতালে অচল হয়ে যায় বন্দর নগরী চট্টগ্রাম।
দুঃশাসনের অবসান ঘটে ২০০১ সালে। আবার সরকার গঠন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সরকারী কোন পদবীধারী সুবিধা না পেলেও দলীয় রাজনীতির পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সংগঠনে সম্পৃক্ত করেন নিজেকে। মহানগর বি.এন.পির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে ২০০৯ সালে গঠিত হয় আহবায়ক কমিটি। আবু সুফিয়ান ঐ কমিটির যুগ্ম আহবায়ক নির্বাচিত হন। ২০১৬ সালে আহবায়ক কমিটি ভেঙ্গে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হলে নির্বাচিত হন সিনিয়র সহ-সভাপতি। আন্দোলন সংগ্রাম ও ত্যাগ তীতিক্ষার অপর নাম আবু সুফিয়ান। সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের ঘাত প্রতিঘাতে পোড়া খাওয়া এই রাজনৈতিক নেতাকে কোন আন্দোলন সংগ্রামে কেউ পিছপা হতে দেখেন নাই। দলের জন্য নিবেদিত থেকে যে কোন পরিস্থিতি সামাল দেয়ার যোগ্যতার জন্য অনেকে উনাকে মহানগর বি.এন.পির মিস্টার ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট (দুঃসময়ের সাহসী সৈনিক) বলেও ডাকেন।
গ্রুপিং এ জর্জরিত চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যখন কেউ দায়িত্ব নিতে চাচ্ছেন না ঠিক তখনই দেশনায়ক তারেক রহমান এর নির্দেশে দক্ষিণ জেলাকে ঘোচানোর জন্য ০৩ অক্টোবর ২০১৯ সালে আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার হয় বার বার পরীক্ষিত আন্দোলন সংগ্রামের অকুতোভয় দুঃসাহসী সৈনিক আবু সুফিয়ান কে, দায়িত্ব নিয়ে উপহার দিয়েছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সমাবেশ। সুদীর্ঘ ক্যারিয়ার, দুর্দিনে তথা আন্দোলন ও সংগ্রামে দলের জন্য ত্যাগের মূল্যায়ন স্বরূপ এম. মোরশেদ খান ও বি.জে.এম.ই এর সাবেক সহ-সভাপতি এরশাদ উল্লাহর মত হেভিওয়েট প্রার্থীকে বাদ দিয়ে দল তৃণমূলের প্রাণস্পন্দন আবু সুফিয়ানকে চট্টগ্রাম-৮ আসনের যোগ্যতম প্রার্থী হিসাবে দলের পক্ষ থেকে বেঁচে নেওয়া হয় ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচন ও ২০১৯ সালের উপনির্বাচনে।
২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর এর মধ্যরাতের নির্বাচন জুলুম, হামলার মধ্যেই বিএনপির চট্টগ্রাম অঞ্চল এ সর্বোচ্চ ভোট পাওয়ার মাধ্যমেই একজন আবু সুফিয়ান এর জনপ্রিয়তা প্রমাণ করে।
ফ্যাসিস্ট খুনী হাসিনার বিরুদ্ধে দেশ নায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে অব্যাহত সংগ্রামের সৈনিক হিসেবে কেন্দ্র ঘোষিত সকল কর্মসূচীতে সম্মুখসারিতে ছিলেন আবু সুফিয়ান। চট্টগ্রামের সকল কর্মসূচী পালন করার সাথে সাথে ২০২৩ সালের ২৮শে অক্টোবর ঢাকায় পল্টনের মহাসমাবেশ, ১০ ই ডিসেম্বর গোলাপবাগ মহাসমাবেশ, নভেম্বরের ঢাকা অবরোধে যাত্রাবাড়ী পয়েন্টে সাহসীকতার সাথে আবু সুফিয়ানের অবস্থান উল্লেখযোগ্য।
২০২৪ জুলাই এর বৈসম্যবিরোধী আন্দোলনে সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের রাজপথে চূড়ান্ত আঘাত হানার জন্য সর্বাত্বকভাবে কাজ করেছেন এই প্রাক্তন ছাত্র নেতা। জুলাইয়ের আন্দোলন পিছন দিক থেকে সংগঠিত করলেও ৩রা আগষ্ট চট্টগ্রাম নিউ মার্কেটে নেতা-কর্মীদের নিয়ে উপস্থিত ছিলেন আবু সুফিয়ান।
শিক্ষা জীবনের আবু সুফিয়ান অত্যন্ত কৃতিত্বের সাথে চট্টগ্রাম দারুল উলুম মাদ্রাসা থেকে মাস্টার্স সমমান হাদীসে কামিল সম্পন্ন করেন। এছাড়াও তিনি চট্টগ্রাম কলেজ থেকে বাংলায় বি.এ অনার্স করেন।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি একজন সাদাসিদে, পরোপকারী ও বন্ধুবৎসল মানুষ। ১ ছেলে ও ৩ মেয়ের সংসারে একমাত্র ছেলে ব্যরিষ্টার তানজিরুল ইসলাম হাইকোর্টে প্র্যাকটিসরত এবং বড় মেয়ে এডভোকেট শারভিয়া শাওলিন ইভান চট্টগ্রাম জজকোর্টে প্র্যাকটিসরত।
বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানের সাথে আবু সুফিয়ান ছাত্র জীবন থেকে কাজ করে যাচ্ছেন। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের আজীবন সদস্য, চট্টগ্রাম ডায়বেটিক হাসপাতালের আজীবন সদস্য, চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা এ-ব্লক সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য, ষ্টেডিয়াম মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির উপদেষ্টা হিসেবে সম্পৃক্ত আছেন।
মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান- একটি নাম, একটি অনুপ্রেরণা, একটি দৃষ্ঠান্ত। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে তিনি একজন লড়াকু সৈনিক ও অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর মত সৎ, নিষ্ঠাবান ও নির্ভিক নেতা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আলোর দ্যুতি ছড়ায়।
